বৃহস্পতিবার , ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
Thursday , 15 January 2026
২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:৩৯, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাপা অফিসে আবার আগুন

জাপা অফিসে আবার আগুন
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবারও হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে। হামলার জন্য গণঅধিকার পরিষদকে দায়ী করেছে জাতীয় পার্টি।  আর গণঅধিকার পরিষদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এর আগে বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ১৪ দল নিষিদ্ধের দাবিতে গণঅধিকার পরিষদ সংহতি সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি জানান গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। শাহবাগের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিছিল নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিছিলটি গণঅধিকার পরিষদের প্রধান কার্যালয়ের সামনে যাওয়ার পর মিছিলের একটি অংশ থেকে কিছু লোক পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে।

আধাঘণ্টার মতো এই হামলা চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। এর পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। দেখা গেছে, হামলায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভবনটির উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভবনের নিচতলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত ভাঙচুর করা হয়েছে। ভাঙচুরের পর সংক্ষুব্ধরা আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ এসে তাদের বাধা দেয়। তবে ততক্ষণে আগুন অনেক স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশ জলকামান দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে।

এই সময়ের মধ্যে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুলিশের বাধা না মেনে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হামলার আগে কার্যালয়ে জাপার কয়েকজন নেতাকর্মী ছিলেন। গণঅধিকার পরিষদের মিছিল আসতে দেখে তাঁরা সরে যান। মিছিলটি জাপা কার্যালয়ের সামনে আসার সময় পুলিশ মোতায়েন ছিল। কিন্তু তাদের সংখ্যা ছিল কম। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ পরে জাপা কার্যালয়ের আগুন নেভাতে শুরু করে। হামলার পর গিয়ে দেখা গেছে, হামলা চালিয়ে কার্যালয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত এইচ এম এরশাদের ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের সড়কগুলোয় দেখা দেয় তীব্র যানজট। আগুনে পাঁচতলা ভবনের নিচতলার বিভিন্ন আসবাব ও নথিপত্র পুড়ে গেছে। কার্যালয়ের সামনের দেয়ালে থাকা এরশাদের ছবি ও জাপার লোগো ভাঙচুর করা হয়েছে। সড়কে ফেলা হয়েছে দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের ছবি।

এই হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে রমনা থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, কয়েকজন লোক জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা কার্যালয়ের ভেতরের অনেক আসবাব ভাঙচুর করে। তারা এগুলোয় আগুনও ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। তা জানতে পেরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ বলছে, বিকেলে শাহবাগে গণঅধিকার পরিষদের কর্মসূচি ছিল। সেদিকে তাদের নজরদারি ছিল। সন্ধ্যার দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সংহতি সমাবেশের পরপরই মঞ্চ থেকে ঘোষণা হয়, তারা মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে যাবে। এরই মধ্যে কিছু নেতাকর্মী শাহবাগ মোড়ে টায়ারে আগুন লাগিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তাঁরা জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এদিকে জাপার যুগ্ম মহাসচিব যুবের আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা) এর দোয়া মাহফিলের আয়োজন নিয়ে আমরা কার্যালয়ে সভা করছিলাম। মাগরিবের পর হঠাৎ একটি বড় মিছিল  থেকে এসে কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। আধা ঘণ্টা তারা অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় জাপার অন্ত্মত চারজন নেতাকর্মী আহত হন ।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দিয়ে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় সংঘর্ষে জড়ান জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য। তাঁরা সেখানে উপস্থিত উভয় দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে না জড়িয়ে চলে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানান। কিছু নেতাকর্মী তাতে সায় দেননি। এক পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা শুরু করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়