শুক্রবার , ১৭ এপ্রিল ২০২৬
Friday , 17 April 2026
২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

আন্তর্জাতিক সংবাদ

প্রকাশিত: ১১:৫৬, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ভ্যাটিকান বনাম ট্রাম্প প্রশাসন: পোপকে ‘সতর্ক’ করলেন জেডি ভ্যান্স ও টম হোমান

ভ্যাটিকান বনাম ট্রাম্প প্রশাসন: পোপকে ‘সতর্ক’ করলেন জেডি ভ্যান্স ও টম হোমান

ভ্যাটিকান ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এখন চরম উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। ইরান ইস্যু ও অভিবাসন নীতি নিয়ে পোপ লিও চতুর্দশের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।


ভ্যাটিকানকে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি

মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পোপকে ধর্মতাত্ত্বিক বিষয়ে কথা বলার সময় ‘সতর্ক’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জর্জিয়ার এথেন্সে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পোপ শান্তির পক্ষে কথা বলতেই পারেন, তবে তার বক্তব্য যেন ‘সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত’ হয়।

পোপের একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই এই ক্ষোভ, যেখানে পোপ বলেছিলেন—“যিশুর অনুসারীরা কখনো বোমা নিক্ষেপকারীদের পক্ষে থাকে না।”

একই দিনে হোয়াইট হাউসের বর্ডার চিফ টম হোমান আরও কঠোর ভাষায় পোপকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন:

“ক্যাথলিক চার্চের নিজস্ব অনেক সমস্যা রয়েছে, আগে সেগুলো সমাধান করা উচিত। চার্চের উচিত অভিবাসন নিয়ে কথা বলা বন্ধ করা, কারণ এ বিষয়ে তাদের সঠিক জ্ঞান নেই।”

সংঘাতের মূলে যা রয়েছে

এই বাকযুদ্ধের সূত্রপাত গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি হুমকিকে কেন্দ্র করে। ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান আলোচনায় না এলে তাদের ‘পুরো সভ্যতা’ মুছে ফেলা হবে। পোপ এই হুমকিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করার পর থেকেই ট্রাম্প ও তার প্রশাসন পোপের ওপর চড়াও হয়। ট্রাম্প পাল্টা পোপকে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ ও ‘বৈদেশিক নীতিতে ভয়াবহ’ বলে আখ্যা দেন।

বিতর্কিত এআই ছবি ও ট্রাম্পের সাফাই

উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলেছে ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। গত রবিবার ট্রাম্প নিজেকে যিশুর মতো চিত্রিত করে একটি এআই-তৈরি ছবি পোস্ট করেন। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ছবিটি ডিলিট করে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি মনে করেছিলেন এটি একজন চিকিৎসকের ছবি, তাই শেয়ার করেছিলেন।


পোপের অনড় অবস্থান

ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমাগত আক্রমণের মুখেও দমে যাননি পোপ লিও। সোমবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন:

  • তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভয় পান না।

  • যুদ্ধের বিরুদ্ধে তার অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।

  • ভিন্ন বিশ্বাস ও জীবনধারা থাকা সত্ত্বেও মানুষ শান্তিতে একসঙ্গে বসবাস করতে পারে।

বিশ্লেষকদের অভিমত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কূটনৈতিক এই লড়াই এখন আর কেবল নীতিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ধর্মতত্ত্ব ও রাজনীতি একীভূত হয়ে যাওয়ায় এই সংঘাত এখন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

সূত্র: দ্য হিল

সর্বশেষ

জনপ্রিয়