মুশফিকের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ
মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি এবং অন্য ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানের লিডসহ পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ৪৩৭ রানের এক অসম্ভব পাহাড়।
জবাবে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে রান তাড়ায় নেমে দিন শেষে ২ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পায় পাকিস্তান। তবে আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা আগেভাগেই শেষ হওয়ার আগে কোনো রান তুলতে পারেনি সফরকারীরা। বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলামের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ওপেনার আজান ও ফজল ২ ওভারই মেডেন খেলেন। পাকিস্তান দিন শেষ করেছে ০ রানে কোনো উইকেট না হারিয়ে।
দিনের শুরু ও শান্তর বিদায়: দ্বিতীয় দিনের ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে আজ সোমবার (১৮ মে) মাঠের লড়াই শুরু করে বাংলাদেশ। আগের দিনের ১৫৬ রানের লিডকে আরও বড় করার লক্ষ্যে ১৩ রানে অপরাজিত থাকা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ক্রিজে আসেন মুশফিকুর রহিম। তবে দিনের শুরুটা ভালো হয়নি। পঞ্চম ওভারেই খুররম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন শান্ত (৪৬ বলে ১৫ রান)। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার।
মুশফিক-লিটনের প্রতিরোধ ও লোয়ার অর্ডারের অবদান: দলীয় ১২৮ রানে শান্তর বিদায়ের পর লিটন দাসকে নিয়ে দলের হাল ধরেন মুশফিক। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা লিটন এবারও দারুণ খেলেন। এই জুটি ১৮৮ বলে ১২৩ রান যোগ করে বাংলাদেশকে চালকের আসনে বসায়। লাঞ্চের পর হাসান আলীর বলে আউট হওয়ার আগে লিটন করেন ৯২ বলে ৬৯ রান (৫টি চার)।
এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৯ বলে ১৯ রান করে খুররমের বলে বোল্ড হন। মিরাজের বিদায়ের পর তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন মুশফিক। সপ্তম উইকেটে তারা ৭৭ রান যোগ করেন। তাইজুল ৫১ বলে ২২ রান করে সাজিদ খানের শিকার হন। এরপর দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় তাসকিন আহমেদ ৬ রান করে হাসান আলীর বলে স্লিপে ক্যাচ দেন এবং শরীফুল ইসলাম ১২ রান করে সাজিদের বলে লং অফে ক্যাচ দিয়ে আউট হন।
মুশফিকের রাজকীয় ইনিংস ও জোড়া ইতিহাস: দলের এক প্রান্ত আগলে রেখে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিকুর রহিম। এই শতকের পথেই তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে ১৬ হাজার রানের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন। একই সাথে মুমিনুল হককে (১৩টি সেঞ্চুরি) টপকে টেস্টে বাংলাদেশের এককভাবে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক হন তিনি। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে ২৩৩ বলে ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৩৭ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন মুশফিক। পাকিস্তানের পক্ষে সাজিদ খান ৪টি এবং খুররম শাহজাদ ও হাসান আলী ২টি করে উইকেট নেন।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট: এর আগে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান করার পর পাকিস্তানকে ২৩২ রানে অলআউট করে ৪৬ রানের লিড পেয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিম (৪) বিদায় নিলেও মাহমুদুল হাসান জয়ের ফিফটি (৬৪ বলে ৫২) এবং মুমিনুল হকের ৩০ রানের ওপর ভর করে শক্ত ভিত্তি পায় বাংলাদেশ।
সিলেটের উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে ৪৩৭ রান তাড়া করে জেতা যেকোনো দলের জন্যই প্রায় অসম্ভব। টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ফলে চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের স্পিনাররা চেনা ছন্দ দেখাতে পারলে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের অপেক্ষায় রয়েছে শান্তর দল।





































