বৃহস্পতিবার , ১৬ জুলাই ২০২৬
Thursday , 16 July 2026
২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ২০:২০, ২০ জুন ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় ক্ষুব্ধ ইসরায়েলিরা, ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় ক্ষুব্ধ ইসরায়েলিরা, ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের আশা জাগালেও ইসরায়েলে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র অসন্তোষ। অনেক ইসরায়েলি নাগরিক ও বিশ্লেষকের মতে, এই চুক্তি দেশটির নিরাপত্তা স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের আস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।

তেল আবিবের কাছাকাছি রেহোভোত শহরের বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে সাধারণ মানুষের আলোচনায় উঠে এসেছে একই উদ্বেগ। ৫৫ বছর বয়সী বাসিন্দা আভি পেরেজ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। অনেকের মতে, এই সমঝোতার ফলে ইসরায়েল আগের চেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং ভবিষ্যতে তাকে একাই নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে।

৩৫ বছর বয়সী শাহাম নোভিক বলেন, যুদ্ধের সময় পরিবার নিয়ে বোমা আশ্রয়ে থাকতে হয়েছে, অথচ এখন হঠাৎ করেই সবকিছু স্বাভাবিক বলে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো সমস্যারই স্থায়ী সমাধান হয়নি।

ইসরায়েলের জনমতের প্রতিচ্ছবি হিসেবে পরিচিত রেহোভোত শহরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে হতাশা স্পষ্ট। একই সময়ে লেবাননে নতুন করে সংঘাতের খবর পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননে প্রাণহানি এবং হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায় ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের একটি বড় অংশ এই সমঝোতাকে কার্যত আত্মসমর্পণের শামিল মনে করছে। তাদের ধারণা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করা কিংবা দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনার মতো যেসব লক্ষ্য সামনে রেখে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, তার কোনোটিই অর্জিত হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক উদি টেনে বলেন, ইসরায়েলিদের বড় একটি অংশ ইরান ও হিজবুল্লাহকে একই ধরনের নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে। তাই লেবানন ও ইরান ইস্যুতে যে কোনো সমঝোতাই তাদের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর মেতুল্লার বাসিন্দারাও চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ড্যানিয়েল ডর্ফম্যানের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে জনগণের সমর্থন থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করতে পারেনি।

এদিকে, চুক্তি ঘিরে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি করলেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় তার জনপ্রিয়তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের গবেষক অধ্যাপক তামার হারম্যান বলেন, বড় বড় লক্ষ্য ঘোষণা করা হলেও সেগুলো বাস্তবায়িত না হলে জনগণের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই হতাশা তৈরি হয়। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সমালোচনার মাঝেও নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন পুরোপুরি কমে যায়নি। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৩ শতাংশ ইসরায়েলি এখনও মনে করেন, ইরান ইস্যু মোকাবিলায় নেতানিয়াহুই সবচেয়ে উপযুক্ত নেতা।

অন্যদিকে, বিরোধীরা অভিযোগ করছেন যে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা সংকটকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে, আর সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উপেক্ষিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েলি সমাজ বর্তমানে গভীরভাবে বিভক্ত হলেও নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের প্রশ্নে অধিকাংশ নাগরিক একই অবস্থানে রয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সমঝোতা দেশটির জনগণের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মিত্রদের প্রতি আস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়