নেতৃত্বের সংকটে ব্রিটেন: যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন কিয়ার স্টারমার
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে। একের পর এক বিতর্ক এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের জেরে তিনি নিজেই পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্টারমার তার ঘনিষ্ঠ মহলে স্বীকার করেছেন যে তিনি ক্ষমতা ছাড়তে প্রস্তুত, তবে তা হবে তার নিজস্ব শর্তে এবং সময় মেনে।
মন্ত্রিসভার এক সদস্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা আর টেনে নেওয়া সম্ভব নয়—সেটা প্রধানমন্ত্রী নিজেও বুঝতে পারছেন। তবে তিনি তাড়াহুড়ো করে নয়, বরং সসম্মানে মাথা উঁচু করে বিদায় নিতে চান।
সংকটের নেপথ্যে যত কারণ
বেশ কিছুদিন ধরেই স্টারমার সরকারের ওপর চাপ বাড়ছিল। তার এই সম্ভাব্য বিদায়ের পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো:
-
ভোটের বিপর্যয়: সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির অত্যন্ত হতাশাজনক ফলাফল।
-
বিতর্ক ও কেলেঙ্কারি: লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়ে বিতর্ক এবং এপস্টাইন-সংযোগের প্রশ্ন দলের ভেতরে-বাইরে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
-
মন্ত্রিসভায় বিদ্রোহ: সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের মাধ্যমে। পদত্যাগ করেই ক্ষান্ত হননি স্ট্রিটিং; তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামীতে লেবার পার্টির নেতৃত্বের লড়াইয়ে তিনি স্টারমারের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন। একই সাথে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সসম্মানে সরে দাঁড়ানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি (টাইমলাইন) ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়তার পারদ তলানিতে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় কোন্দলের চেয়েও স্টারমারের জন্য বড় আঘাত হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের অনাস্থা।
রেকর্ড অজনপ্রিয়তা: আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা 'ইউগোভ' (YouGov)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ স্টারমারের ওপর অসন্তুষ্ট। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, ব্রিটেনের রাজনৈতিক মহলে অনেকেই এখন স্টারমারের সাথে দেশটির সাবেক স্বল্পমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের তুলনা করছেন—যিনি মাত্র ৪৯ দিন ক্ষমতায় টিকে ছিলেন। স্টারমার হয়তো সেই মেয়াদ পার করেছেন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন একটাই—লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে তার মেয়াদ আর কতদিনের?





































